আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস।
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফুল হক আরিফ
এই বিশেষ দিনে মনের অজান্তেই স্মৃতির পাতাগুলো উল্টে যায়, আর চোখের সামনে ভেসে ওঠে কত শত অমলিন স্মৃতি। জীবনে অনেক শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি, কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন যাঁদের উপস্থিতি জীবনের পুরো গল্পটাকেই বদলে দেয়। আমার হাইস্কুল জীবনে তেমনই এক অনন্য আলো ছিলেন আমাদের প্রিয় শিক্ষিকা মোসাঃ সালমা খানম ম্যাম।ম্যামের কাছে শিক্ষাটা শুধু পাঠ্যবই আর ক্লাসরুমের চারদেওয়ালে সীমাবদ্ধ ছিল না। স্কুলের পর প্রাইভেটেও আমরা তাঁর কাছে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। বইয়ের গতানুগতিক পড়ার বাইরে গিয়ে জীবনের গভীর অনুভূতিগুলো তিনি আমাদের খুব সহজ করে শেখাতেন। মানুষ চিনতে শেখা, সম্পর্ককে সম্মান করা আর প্রিয় মানুষকে আগলে রাখার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা কোনো বইতে লেখা থাকে না।
এমনকি আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবীর সঙ্গে আমার বন্ধনটা যে কতটা বিশেষ, সেটা ম্যামই আমাকে প্রথম অনুভব করিয়েছিলেন। আমাদের এই সুন্দর সম্পর্কটা এতগুলো বছর পরও অটুট থাকার পেছনে তাঁর এই নীরব ভূমিকা আমি চিরকাল স্মরণে রাখব।
ম্যামের প্রতি আমাদের টানটা কতটা তীব্র ছিল, তা একটি ছোট স্মৃতি মনে করলেই বোঝা যায়। তিনি যখন ডে শিফট থেকে মর্নিং শিফটে বদলি হলেন, তখন তাঁর ছায়ায় থাকার জন্য আমি আর আমার দুই বান্ধবী মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম—আমরাও শিফট বদলে মর্নিংয়ে চলে যাব!
পড়াশোনার বাইরেও ম্যামের সাথে আমাদের অজস্র আনন্দের মুহূর্ত জমা হয়ে আছে। তিন-চারজন বান্ধবী মিলে কতবার যে ম্যামের বাসায় গিয়েছি, কত সুন্দর সময় কাটিয়েছি—তার কোনো হিসাব নেই।
তবে ম্যামের থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা ছিল তাঁর নিজের জীবন থেকে। অজস্র প্রতিকূলতা আর ঝড়ের মুখোমুখি হয়েও তাঁকে কখনো হার মানতে দেখিনি। অদম্য স্পৃহায় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইসলাম শিক্ষা’, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইংরেজি’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘এম.এড’ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শুধু নিজের শিক্ষাজীবনেই নয়, সন্তানকেও গড়ে তুলেছেন এক অনন্য উচ্চতায়—তাঁর মেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় (BSMRAAU)-এ অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান এবং বর্তমানে সেখানে সফলভাবে অবস্থান করছেন। ম্যাম আমাদের শিখিয়েছেন—পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সত্য ও সততার পথে থেকে জীবনের গতি কখনোই থামানো যাবে না।
আজ আমি পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষের একজন শিক্ষার্থী। ক্যারিয়ার হিসেবে মেডিকেল সেক্টরকে ভালোবেসে বেছে নেওয়ার পেছনেও ম্যামের অনুপ্রেরণা আর অবদান ছিল অপরিসীম।
আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পেছনে ফিরে তাকালে অনুধাবন করি, তিনি শুধু একজন শিক্ষিকা ছিলেন না, ছিলেন জীবনের পাঠ শেখানো এক পরম অভিভাবক। ম্যামের শেখানো প্রতিটি বার্তা আজও আমার জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে পথ দেখায়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমার প্রিয় সালমা খানম ম্যামসহ পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি রইল আমার বিনম্র শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও চিরন্তন কৃতজ্ঞতা।
শ্বাশতি ইসলাম সুষমা
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন