মো. ছাইফুল ইসলাম-(জিহাদ), নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের এপিএস আকবর হোসেন সবুজকে ঘিরে দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে ভোলার লালমোহনে সচেতন মহল, সুশীল সমাজ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, আকবর হোসেন সবুজের মানহানি ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কিছু মনগড়া ঘটনার সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও সেসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য, নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
লালমোহন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুন্তলা সিকাদার বলেন, আকবর হোসেন সবুজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে আসছেন। তাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। যাচাই ছাড়া এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন নয়, যাতে একজন ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে স্পিকারের নির্বাচনী এলাকা ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) এলাকার সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
তাদের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই করা সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
তারা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি প্রকাশিত তথ্য পুনরায় যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এপিএস আকবর হোসেন সবুজ বলেন, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে স্পিকার মহোদয় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও তাঁর কঠোর অবস্থান রয়েছে। এসব বিষয়ে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে গিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, সংসদ সচিবালয়ে কিছু পেপার কার্ড তারা দিয়েছে। তবে সেখানে উল্লেখ করা বিষয়গুলো মূলত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের ঘটনা। সেগুলোকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
আকবর হোসেন সবুজ আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তার কাছে এবং তার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের কাছেও নগদ টাকা দাবি করা হয়েছিল—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে বিষয়গুলোকে তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি।
তিনি বলেন, সৎভাবে দায়িত্ব পালন করতে গেলে কখনো কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব অপপ্রচার নিয়ে তার তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তিনি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যেতে চান।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন