নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সদ্য সাবেক ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজারের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সময়ে হামলা-মামলা ও শারীরিকভাবে আহত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নতুন নেতৃত্বে নিজের অবস্থান ও ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরেছেন তিনি।
“২০০৯ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতিতে সিজার”
জাকারিয়া খান সিজারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পল্লবী থানা ছাত্রদলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও ওই ওয়ার্ডের কমিটি গঠন না হওয়ায় পদটিতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি। পরবর্তী সময়ে তিনি পল্লবী থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিজার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলের কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এ সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাইনি আমি।
“হামলা, মামলা ও পারিবারিক ক্ষতি”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জাকারিয়া খান সিজার বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার হামলা ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় তাঁর বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। ওই সময়ে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন এবং তাঁর মাধ্যমে তাঁর মাও সংক্রমিত হন। পরে ২১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়।
সিজার বলেন, মায়ের মৃত্যু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার সময় পরিবারের এমন অপূরণীয় ক্ষতির স্মৃতি আজও তাঁকে কষ্ট দেয়।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে মায়ের কবর জিয়ারত করতেও বিভিন্ন বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন বাস্তবতার অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
“ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে আহত”
জাকারিয়া খান সিজার বলেন, ২০২২ সালে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে মিরপুর-১ এলাকায় মুক্তবাংলার নিচে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় তিনি আহত হন। ওই ঘটনায় তাঁর মাথা রক্তাক্ত হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর আহত হওয়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছেন।
“জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও গুলিবিদ্ধ”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে সিজার বলেন, ওই সময় মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। তিনি বলেন, ৪ আগস্ট মিরপুর আইডিয়াল স্কুলের সামনে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাঁকে।
সিজারের মতে, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াই তাঁর রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও ব্যক্তিগত ক্ষতির ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরা কঠিন। দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
“নতুন নেতৃত্ব নিয়ে তৃণমূলের প্রত্যাশা”
এদিকে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। তাঁদের মতে, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বকে এমন হতে হবে, যিনি কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তাঁদের মতে, নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে জাকারিয়া খান সিজারের নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। তাই ব্যক্তিগত পরিচিতি কিংবা রাজনৈতিক ইতিহাসের পাশাপাশি সাংগঠনিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা আরো বলেন । চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নিয়ে এখনো নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের দাবি নিয়ে জাকারিয়া খান সিজার আলোচনায় থাকলেও তাঁর ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর।
নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে তৃণমূলের প্রত্যাশা কতটা প্রতিফলিত হয় এবং সংগঠনের কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নেতাকর্মীরা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন