লালমোহন ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান হয়েও সম্মানী ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করেছেন সোনাবান নামে এক অসহায় নারী। এ ঘটনায় তিনি ভোলা জেলা প্রশাসক, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের দেবীরচর গ্রামের বাসিন্দা শহীদ তানসেন মিয়া। লালমোহন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকেও তার নাম উল্লেখ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ তানসেন মিয়ার মুক্তিযোদ্ধা নম্বর-০২০৯০০০০০৩৭ এবং শহীদ বেসামরিক গেজেট নম্বর-১০৩।
উপজেলার বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া ওয়ারিশ সনদ অনুযায়ী, শহীদ তানসেন মিয়ার দুই স্ত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। আর অভিযোগকারী সোনাবান তার দ্বিতীয় স্ত্রীর একমাত্র কন্যা সন্তান।
ভুক্তভোগী সোনাবানের অভিযোগ, ১৯৭১ সালে তানসেন মিয়া শহীদ হওয়ার পর তার প্রথম স্ত্রী শাফিয়া খাতুন লালমোহন অগ্রণী ব্যাংক থেকে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। কিন্তু তিনি তার প্রাপ্য অংশের ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি ২০২৬ সালের লাইফ ভেরিফিকেশনেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সোনাবানের পক্ষে লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সভাপতি আব্দুর শহীদ মিয়ার স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট গেজেট ও বিধান অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বা স্বামী, পিতা-মাতা ও সন্তানদের সম্মানী ভাতার বিষয়ে নির্ধারিত বিধান রয়েছে। তবে সোনাবান ভাতার অংশীদার হিসেবে আইনগতভাবে কতটুকু প্রাপ্য, তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত বিন সাদেক জানান, শহীদ তানসেন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান সোনাবান লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের প্রাপ্য ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তর সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে সোনাবান সংক্ষুব্ধ হলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে পারেন।
লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার শহীদ মিয়া বলেন, সোনাবান শহীদ তানসেন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। বিষয়টি আমরা আগে জানতাম না। তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করার পর তদন্ত করে বিষয়টি জানতে পারি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি রিপন সান বলেন, বিষয়টি মানবিক ও আপসের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়। শহীদ তানসেন মিয়ার প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা যেন তাদের সৎ বোন সোনাবানকে প্রাপ্য ভাতা থেকে বঞ্চিত না করেন।
লালমোহন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক নোমান জানান, সোনাবানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ তানসেন মিয়ার প্রথম ঘরের সন্তানদের প্রাপ্য ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। এখন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ব্যাংক। শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাতা নিয়ে সৃষ্ট এ বিরোধের দ্রুত ও ন্যায়সংগত সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন