ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে রাসায়নিক মিশ্রিত চিটা গুড়, ময়দা, চিনি ও ভুট্টার গুঁড়া দিয়ে অবৈধভাবে নকল ও ভেজাল আখের গুড় তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত ১২ অক্টোবর দেওয়ানগঞ্জ থানাধীন সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ গোয়ালকান্দা এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই ভেজাল কারখানার সন্ধান পায় এবং ঘটনাস্থল থেকে তিন কারবারিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ গোয়ালকান্দা এলাকার মৃত তাহের আলীর ছেলে মোঃ সবুর (৪৫), মৃত কট্টু মন্ডলের ছেলে মোঃ মকবুল (৬০) এবং মোঃ ফুলচানের ছেলে মোঃ রবি আলম ওরফে রফিক (২৭)। এছাড়া অভিযানের সময় আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামি দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাংধরা ইউনিয়নের কুমাররেরচর বাজারে অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে দক্ষিণ গোয়ালকান্দা গ্রামে আসামি সবুরের বাড়ির ভেতর অবৈধভাবে ভেজাল খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে সকাল ৯:৫৫ ঘটিকায় এসআই আবদুল্লাহ আল মোমেন ও এসআই বিপ্লব হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ৮-১০ জন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করে। পরে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আসামিদের দেখানো মতে সকাল ১০:১৫ ঘটিকায় বসতবাড়ির উঠান থেকে মোট ৭৭,১৬০ টাকার ভেজাল গুড়সহ অন্যান্য মালামাল ও ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে তরল গুড় তৈরির একটি বড় স্টিলের কড়াই, দুটি মুগুর, একটি লোহার খুন্তি, কনটেইনারে থাকা ২০২ কেজি চিটা গুড়, ৬১ কেজি ময়দা, ৩০০ কেজি সাদা চিনি, সাতটি ক্যারেটে ২৮০টি গুড়ের বল (১৯৬ কেজি) এবং ১০ কেজি ভুট্টার গুঁড়া। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা অকপটে স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব রাসায়নিক ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অবৈধভাবে ভেজাল আখের গুড় তৈরি করে স্থানীয় বাজারে ক্রয়-বিক্রি করে আসছিল।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সানন্দবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ভেজাল গুড় তৈরির কাঁচামাল, প্রস্তুতকৃত ভেজাল গুড় ও সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় খাদ্য ভেজালকরণের অপরাধে ১৯৭৪ সালের দ্য স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্টের ২৫সি(১)(এ) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন