বিপ্লব তালুকদার খাগড়াছড়ি : সবুজের বিস্তীর্ণ ধানের মাঠ। তারই মাঝে হঠাৎ চোখ আটকে যায় কালচে রঙের ধানের ছড়ায়। বাতাসে দুলতে থাকা কালো ধানের শিষ যেন সবুজের বুকে এক টুকরো ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য। খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এবার এমনই নজরকাড়া ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের চাষ করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা এনামুল।
পানছড়ি উপজেলার গোলাক প্রতিমাছড়ার ধানের মাঠে নিজস্ব ১২ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের চাষ করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পানছড়িতে এটাই প্রথম ব্ল্যাক রাইস চাষের উদ্যোগ।
ব্যতিক্রমী এই ধানের বীজ সংগ্রহ করতে এনামুল বগুড়া থেকে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে ধান কিনে আনেন। এরপর নিজস্ব জমিতে বীজতলা তৈরি করে চারা রোপণ করেন। পরিচর্যার পর এখন গাছে গাছে বের হতে শুরু করেছে কালচে রঙের ধানের ছড়া। কোনো কোনো ছড়া বেশ বড় ও পরিপুষ্ট হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করছেন উদ্যোক্তা।
এনামুল জানান, বাজারে ব্ল্যাক রাইসের চাহিদা ও দামও তুলনামূলক ভালো। প্রতি কেজি চাল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পাশাপাশি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কালো চালের আলাদা চাহিদা রয়েছে।
পরীক্ষামূলক চাষে আশানুরূপ ফলন পেলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে ব্ল্যাক রাইস চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে এই তরুণ উদ্যোক্তার।
সবুজের মাঝে কালো ধানের এই ব্যতিক্রমী দোলা এখন শুধু দৃষ্টি কাড়ছে না, পানছড়ির কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তাও দিচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, পানছড়িতে ব্লাক রাইচের চাষ হয়েছে যার ফলন ভালো হয়েছে। এটি একটি উচ্চ মানের পুষ্টি সম্পন্ন। এটি সম্প্রসারণ হলে কৃষকরা অনেক বেশী লাভবান হবে এবং অনেক দাম পাবে। পানছড়িতে আরো বেশী সম্প্রসারণের জন্য কৃষকদের কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হবে।
উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নয়ন্টু চাকমা জানান, এ ব্লকে আমি দায়িত্বে আছি। উদ্যেক্তা এনাম সমতল জেলা থেকে বীজ এনে ব্লাক রাইচ চাষ করেছেন। কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারলে এটার ব্যপকতা ছড়িয়ে যাবে। কৃষকরাও লাভবান হবে। এটা খুব উচ্চমুল্যের ফসল। ২৫০থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হয়। এটা বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ব্রী কর্তৃক উৎপাদিত একটি নতুন জাত।
কৃষি উদ্যেক্তা এনামুল হক এনাম জানান, বারো শতক জায়গায় আমি ব্লাক রাইচ চাষাবাদ করেছি। এটা চাশ করার আগে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেয়েছি। বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল আমাকে বেশী সাহস জুগিযেছে। এই বারো শতক জমিতে চার মন ধান পাওয়ার আশা করছেন তিনি। সামনে আরো বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছেন তিনি।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন