মুশতাক আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-২ আসনে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তেজনা। একাধিক এমপি পদপ্রার্থী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালালেও ভোটারদের আলোচনায় একটি নামই বারবার উঠে আসছে—এম এইচ খান মঞ্জু। স্থানীয়দের কাছে তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং একজন আস্থার প্রতীক। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নানা রাজনৈতিক জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারের কারণে একটি সময় তিনি সরাসরি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। তবে সে সময়েও তিনি এলাকা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেননি। বরং নীরবে মানুষের পাশে থেকে জনসম্পৃক্ততাকে আরও দৃঢ় করেছেন, যা আজ তাকে ভোটারদের আস্থার জায়গায় আবারও শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
এম এইচ খান মঞ্জু গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই এলাকার মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষায়, জন্মভূমি ও মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের কারণেই তিনি আজও অনেকের কাছে “নিজের ঘরের মানুষ” হিসেবে পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তিনি একটি সময় প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। তবে এই সময়টিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন মানুষের সুখ-দুঃখ বোঝার জন্য। সামাজিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক সংকট কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের কাশিয়ানী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়, হাটবাজার, চায়ের দোকান ও স্থানীয় আড্ডায় তার নাম ঘিরে আলোচনা হচ্ছে। অনেক ভোটারের বক্তব্য, “তিনি রাজনীতিতে সামনে না থাকলেও আমাদের খোঁজখবর রেখেছেন। বিপদে-আপদে পাশে থেকেছেন। তাই তার প্রতি মানুষের আস্থা এখনও আছে।”
রাজনৈতিক জীবনে এম এইচ খান মঞ্জু নতুন মুখ নন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় এলাকায় রাস্তাঘাট উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা আজও প্রবীণ ভোটাররা স্মরণ করেন। স্থানীয়দের মতে, সে সময়ের অনেক উন্নয়ন কাজ আজও এলাকার ভিত্তি হিসেবে টিকে আছে।
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এম এইচ খান মঞ্জু অতীত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও সামনে আনছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত হলে তিনি গোপালগঞ্জ-২ আসনকে আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো তার পরিকল্পনার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ-২ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে এম এইচ খান মঞ্জু বলেন,“আমি রাজনীতি করেছি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। নানা ষড়যন্ত্র, ভুল ব্যাখ্যা ও মিথ্যাচারের কারণে একটি সময় আমাকে রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে থাকতে হয়েছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের মানুষ থেকে আমি কখনো দূরে থাকিনি।”
তিনি আরও বলেন,“অতীতে যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করেছি। সেই কাজগুলো মানুষ আজও মনে রেখেছে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। ভবিষ্যতে যদি আবার দায়িত্ব পাই, তাহলে অভিজ্ঞতা ও আধুনিক চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চাই।”
সব মিলিয়ে, গোপালগঞ্জ-২ আসনে এম এইচ খান মঞ্জুকে ঘিরে যে জনআস্থা ও আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন