বিপ্লব তালুকদার , খাগড়াছড়ি : আপনমনে অপরূপ সাজে সাজানো পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ঢেউ খেলানো সৌন্দর্য্য, পাহাড়ি ঝর্ণারাজি আকর্ষণীয় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির চারদিক ঢেউতোলা সবুজের উঁচু পাহাড়ের দেয়াল।
খাগড়াছড়ি মেয়ে নবানিতা খাস্তাগির সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক খালি গলায় গান গাইছিল মেয়েটা। বাদ্যযন্ত্র বলতে তেমন কিছুই নেই। শুধুমাত্র হাতে থাকা একটি গিটার । সুরের মায়াজাল তৈরি করে গেয়ে চলছিল ‘যেখানে সীমান্ত তোমার…’। আমি একবার নয়, বেশ কয়েকবার গানটি শুনি আর নিজের অজান্তেই বলে উঠি, ‘আহা, কী মিষ্টি গলা! পোস্টের নিচের কমেন্টগুলোর দিকে তাকাতেই চোখ ছানাবড়া!এত কমেন্ট, এত প্রশংসা! অনেক অনেক ভিউয়ার্স ততক্ষণে দেখে ফেলেছে ভিডিওটি। কেউ কেউ মেয়েটির গলার প্রশংসা করার পাশাপাশি গিটার বাজানো প্রশংসা করতেও ছাড়েনি অনেকেই।
সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের সেই খাগড়াছড়ি মেয়ে নবানিতা খাস্তাগির একদিন বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে অনেকদুর যাবেন ধারণা করছেন অনেকেই মিষ্টি গলায় শোনাচ্ছেন একের পর এক গান, বাদ্যযন্ত্র হিসেবে সঙ্গী হলো সেই গিটার। খাগড়াছড়ির পুরো জেলায় প্রশংসায় ভাসছেন নবানিতা । নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়া মেলে ধরলেও এখনো পযন্ত কোন মিডিয়ায় গান করা হয়নি নবানিতার । তাতে কি, সোশ্যাল মিডিয়ায় গান আপলোড করে মানুষের মনে জায়গা করে নেন তিনি। এটাই বা কম কিসে?
নবানিতা নামে পরিচিতি পেলেও তার পুরো নাম নবানিতা খাস্তাগির। বেড়ে ওঠা পার্বত্য অঞ্চল খাগড়াছড়িতে । বাবা অজিত খাস্তাগির। মা কুসকুম খাস্তাগির । মফস্বল শহরের আলোছায়ায় বেড়ে ওঠা নবানিতা কখনো ভাবেননি সোশ্যাল মিডিয়া গান গেয়ে এত প্রশংসা হবেন। গান গেয়ে মানুষের মন জয় করার চিন্তা তো আরও বহুদূর! আর গিটার বাজানো সে না হয় নাই বলি।
নিজের ভেতর গুটিয়ে থাকা একটি মেয়ে। আর দশটা মেয়ের মতো দুষ্ট নয়, লক্ষ্মী স্বভাবের। নম্র ভদ্র মেয়েটি এখনো গান শিখছেন। গান শুনতে শুনতেই গানের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এভাবেই একসময় নিজেই বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গেয়ে ওঠেন মিতালি মুখার্জির গান, সাবিনা, রুনার সুরে নিজের গলা ভেজে পরখ করেন পাশাপাশি নিজের চর্চাটাও শুরু করেন পুরোদমে।
নবানিতা গল্প এখানেই শেষ নয়, গল্পটা কেবল শুরু। কারণ নিজেকে ঝালাই করে নিতে নবানিতা গানের তালিম নিচ্ছেন । গিটার বাজিয়ে , শিস বাজিয়ে নবানিতা খাস্তাগির নিজের গল্প বলে যাবেন ধীরে ধীরে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন