বোরহানউদ্দিনে স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলা
ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধিঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ভোলায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মামলার বাদী মোঃ হোসেন (৪০), পিতা- আঃ গনি, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— মোঃ হৃদয় (২০) ও মোঃ রিপন (৩৫), উভয়ের পিতা মোঃ সিরাজ, পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড; মোঃ রাকিব (৩৬), পিতা মোঃ খালেক, কুতুবা ৮ নম্বর ওয়ার্ড; এবং মনি বেগম (৫৫), স্বামী মোঃ সিরাজ, পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড, বোরহানউদ্দিন, ভোলা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্কুল ছাত্রী লামিয়া আক্তার কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী। প্রধান অভিযুক্ত মোঃ হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য অভিযুক্তদের সহযোগিতায় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে এবং বিভিন্ন অশালীন আচরণের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি মেয়েটি তার পিতাকে জানালে তিনি প্রথমে সামাজিক মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গোপন রাখেন এবং পরে প্রধান আসামীর অভিভাবকদের অবহিত করেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না হয়ে উল্টো মেয়েটির সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ মার্চ ২০২৬, শনিবার সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে, লামিয়া আক্তার প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়াঘাট সড়কে অ্যাডভোকেট ফরিদ সাহেবের বাসার সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে অপহরণের চেষ্টা করে। এসময় প্রধান আসামী হৃদয় তার ব্যাগ টেনে ধরে এবং অন্যান্য আসামীরা তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর আশঙ্কা, আসামীরা তার মেয়েকে যে কোনো সময় গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাদী আদালতের কাছে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত রিপনের স্ত্রী জানান, “আমার স্বামী, দেবর ও শাশুড়ী বাসায় নেই।” মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার দেবর ও লামিয়া কোথায় আছেন, আমি জানি না।”
ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“স্কুলে যাওয়া একটি মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।”
আরেকজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন,
“শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা।”
এলাকার সচেতন মহল জানান, এ ধরনের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন