সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও নয়দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে উল্টো রথ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ জুলাই) বিকালে খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ণ মন্দিরে প্রথম অদিবেশনে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে উল্টো রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় প্রাঙ্গন থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শান্তিনগর হয়ে খাগড়াছড়ি গেইট ঘুরে এসে শ্রী শ্রী বঙ্কুবিহারী কেন্দ্রীয় ইসকন মন্দিরে এসে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, রথযাত্রা উৎসব হচ্ছে বড় ভাই বলরাম বা বলভদ্র ও বোন সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন যাত্রার স্মারক। তিন জনের জন্য আলাদা আলাদা তিনটি রথ। রথযাত্রা উৎসবের মূল দর্শনীয় হল এই রথ তিনটি। প্রথমে যাত্রা শুরু করে বড় ভাই বলভদ্রের রথ। এই রথের নাম তালধ্বজ। রথে তার সঙ্গী হন রামকৃষ্ণ তালধ্বজের রক্ষীর নাম বাসুদেব। সারথি সাত্যকি। রথের মাথায় পতাকার নাম উন্যানী। রথের রশির নাম বাসুকি নাগ। বলরামের রথেও ৯ দেবতা থাকেন ৷
এদের মধ্যে আছেন কার্তিক, গণেশ, সর্বমঙ্গলা, মৃত্যুঞ্জয়, মুক্তেশ্বর। তারপর যাত্রা করে সুভদ্রার রথ। রথের নাম দর্পদলন। যেহেতু রথটির ধ্বজা বা পতাকায় পদ্মচিহ্ন আঁকা রয়েছে তাই রথটিকে পদ্মধ্বজও বলা হয়ে থাকে। দর্পদলনের সারথির নাম অর্জুন। দর্পদলনের মাথায় থাকা পতাকার নাম নদম্বিকা ৷ রথের রশির নাম স্বর্ণচূড়া নাগুনি। সুভদ্রার রথে থাকেন ৯ দেবী ৷ এদের মধ্যে রয়েছেন চণ্ডী, চামুণ্ডা, বনদুর্গা, শুলিদুর্গা, শ্যামাকালী, মঙ্গলা, বিমলা ৷
এ সময় তিনটি রথের সেচ্চাসেবকের দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন সনাতন সসমাজ কল্যাণ পরিষদ সদর উপজেলার শাখার নেতৃবৃন্দ , বাগীশিক খাগড়াছড়ি জেলা শাখা সদস্যরা , বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট ও জাগো হিন্দু পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ সহ অনন্যসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন