মুশতাক আহমেদ, পবিপ্রবি প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল হয়েছে বাংলাদেশের নাম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ওয়ান হেলথ নেটওয়ার্ক “সিওহুন” আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা “সিওহুন ২০২৬ রিজিওনাল স্টুডেন্ট কম্পিটিশন: ওয়ান হেলথ ক্যাম্পাস-টু-কমিউনিটি চ্যালেঞ্জ”-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল “ওয়ানহেলথভিলেজ”। দলটির অধিকাংশ সদস্য পবিপ্রবির শিক্ষার্থী হওয়ায় এ অর্জনে গর্বিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারও।
মানব, প্রাণী ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় এনে কমিউনিটি পর্যায়ে টেকসই স্বাস্থ্যসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর কারিগরি সহযোগিতা এবং শেভরনের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের বিজয়ী দল “ওয়ানহেলথভিলেজ”-এর প্রকল্পের শিরোনাম ছিল “ওয়ানহেলথভিলেজ: এ কমিউনিটি-লেড ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়ান হেলথ এডুকেশন ইনিশিয়েটিভ ইন রহমতপুর অ্যান্ড মাধবপাশা, বাবুগঞ্জ, বরিশাল”। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেন পবিপ্রবির অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিভিএম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাইমুন হাসান।
দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস শিক্ষার্থী মো. জেসান ফারদিন, পবিপ্রবির রুফাইদা জেরিন, সামিয়া হক, মুহাইমিনুল ইসলাম, জুবায়ের মাহমুদ নির্জাস ও জয় মঙ্গল কুণ্ডু এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজিদ বিন সাইফ। দলটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম রুমি।
প্রকল্পটির মাধ্যমে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ও মাধবপাশা ইউনিয়নে ওয়ান হেলথ শিক্ষা বিস্তার, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, জলাতঙ্ক, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন জুনোটিক রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উঠান বৈঠকভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচার এবং স্থানীয় পর্যায়ে ওয়ান হেলথ লিডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
দলনেতা মো. সাইমুন হাসান বলেন, “আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। সুপারভাইজার ড. ফারজানা ইসলাম রুমি ম্যামের দিকনির্দেশনা এবং টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই আমি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ও ওয়ান হেলথ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম রুমি বলেন, “এই অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রকল্প শুধু একটি প্রতিযোগিতার সাফল্য নয়; বরং কমিউনিটি পর্যায়ে টেকসই ওয়ান হেলথ চর্চার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি টিমের সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং আশা করি তারা ভবিষ্যতেও দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
উল্লেখ্য, সিওহুনের এ আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত নয়টি দলকে সর্বোচ্চ দুই হাজার মার্কিন ডলার অনুদান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মেন্টরশিপ এবং ২০২৬ সালের আঞ্চলিক নলেজ শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে তাদের কার্যক্রম উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। সিওহুনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, “ওয়ানহেলথভিলেজ” প্রকল্পটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ওয়ান হেলথ শিক্ষার একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রয়োগযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন