ডেস্ক রিপোর্ট
৩ জুলাই ২০২৫, ৯:০৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৪০৭ জন

ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে ৭৫ কোটি টাকা ঘুষ নেন আনিসুল হক

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার ঘনিষ্ঠ পাঁচজনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২০১৯ ও ২০২০ সালে ৪০ দফায় মোট ৭৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। এসব টাকা নগদ জমা হয় এবং অর্থের উৎস চিহ্নিত হয়নি বলে জানা গেছে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে পাওয়া হিসাব বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

যাদের ব্যাংক হিসাবে ঘুষের অর্থ জমা হয়, তারা হলেন আনিসুল হকের ব্যবসায়িক বন্ধু মোহাম্মদ ইকবাল, মা জাহানারা হক, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম, ভাগিনা এস কে মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কথিত বান্ধবী তৌফিকা করিম। তাদের ব্যাংক হিসাবগুলোর একমাত্র নমিনি ছিলেন আনিসুল হক নিজে।

মোহাম্মদ ইকবালের হিসাবে ১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা

জাহানারা হকের হিসাবে ২৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা

জেবুন্নেসা বেগমের হিসাবে ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা

ইফতেখারুল ইসলামের হিসাবে ২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা

তৌফিকা করিমের হিসাবে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা হয়।

এই অর্থগুলো কোনো ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে আসেনি, বরং সরাসরি নগদ জমা হয়েছে। এতে অর্থের উৎস গোপনের উদ্দেশ্য ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে দুদক ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে তার ২৭টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে ১৪০ কোটি ১৭ লাখ টাকা রয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।

আনিসুল হকের নামে রয়েছে ১৭টি ব্যাংক হিসাব এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে রয়েছে আরও ১০টি হিসাব। এ ছাড়া তিন দফায় ৩৪৯ কোটি টাকার লেনদেনেরও প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

২০২৩ সালের আগস্টে তিনি আত্মগোপনে যান এবং একই বছরের ১৩ আগস্ট তাকে ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২০ জানুয়ারি তাকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তৌফিকা করিমের বিরুদ্ধেও ৫৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ৮৮টি ব্যাংক হিসাবে ৩৭৪ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

তৌফিকা করিমের ৩৮টি ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তার বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জিতেন বড়ুয়া গ্রেপ্তার

মহালছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশেষ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন সহস্রাধিক মানুষ

পবিপ্রবি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের নেতৃত্বে মোহাম্মদ ও প্রান্ত

ভোলা সদর উপজেলা পিআইও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে টিআর কাবিটার তথ্য নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ

গোপালগঞ্জে মানবাধিকার রক্ষায় সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অনুষ্ঠিত

খাগডাছড়িতে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস পালন

পানছড়িতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের সহযোগি সদস্য গুলিতে নিহত

মনোহরদীর উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান

সাজেকে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় সড়ক বন্ধ, সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন পূর্বধলার এস এম সাইফুল

১০

খাগড়াছড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এক উপজাতি ব্যক্তিকে বিদেশী সিগারেট সহ আটক।

১১

বর্ণাঢ্য আয়োজনে খাগড়াছড়িতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬ উদ্বোধন

১২

মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

১৩

গোপালগঞ্জে মে দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা।

১৪

খাগড়াছড়িতে বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

১৫

নেত্রকোনা পূর্বধলায় আইনশৃঙ্খলা সভায় নবাগত ওসির ঘোষণা: মাদক ও অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’

১৬

মহালছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ

১৭

টুঙ্গিপাড়ায় ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্যের দাবিতে র‍্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

১৮

খাগড়াছড়িতে রিসোর্টে ইয়াবা আসর: ম্যানেজারসহ আটক ৩

১৯

খাগড়াছড়িতে রিসোর্টে ইয়াবা আসর: ম্যানেজারসহ আটক ৩ বিপ্লব তালুকদার খাগড়াছড়ি। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মহাজনপাড়ায় অবস্থিত ‘হোটেল অতিথি রিসোর্ট’-এ অভিযান চালিয়ে ৯৬ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি এবং হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিসোর্টটির ৩০২ নম্বর কক্ষে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিসোর্টটির চতুর্থ তলায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে হানা দেয়। তল্লাশি চালিয়ে কক্ষের ভেতর থেকে ৯৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মাদক বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত দুই আসামিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক কৃতরা হলেন মোঃ আশরাফুল ইসলাম (২৩)মহালছড়ির মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ছেলে (বর্তমানে খাগড়াছড়ি সদরের শালবন নিবাসী),মোছাঃ সালমা বেগম (৩৫) পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানার পুনামাগাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মেয়ে। অভিযান চলাকালে হোটেলের বোর্ডার রেজিস্টার পরীক্ষা করে দেখা যায়, গত ২৩ এপ্রিলের পর থেকে কোনো অতিথির নাম নথিবদ্ধ করা হয়নি। মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধভাবে অবস্থান করতে দেওয়া এবং তথ্য গোপন করে অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজার মোঃ মহসিন (৪৫)-কেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আটক মহসিন কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার বাসিন্দা। খাগড়াছড়ি সদর থানায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (এফআইআর নং-১৫, তারিখ-২৭ এপ্রিল ২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এই জিরো টলারেন্স নীতি এবং অপরাধীদের আশ্রয়দাতা হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিপ্লব তালুকদার খাগড়াছড়ি।

২০