অসাংবিধানিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিলের দাবিতে বান্দরবানে পিসিসিপি’র স্মারকলিপি
রমজান আলী, বান্দরবান প্রতিনিধি
বাংলাদেশ সংবিধান ও দেশের সার্বভৌমত্বের সাথে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিলের দাবীতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখা। আজ (০২ ডিসেম্বর, ২০২৫) দুপুর ৩.০০ ঘটিকায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে পিসিসিপি উল্লেখ করেন, পার্বত্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা সংবিধানের ১, ৫৯, ৮০, ১২২, ১৪৩, ১৪৪সহ একাধিক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা স্ট্যাটাস প্রদান, অনির্বাচিত আঞ্চলিক পরিষদ গঠন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় জেলা পরিষদকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া, ভোটার তালিকা ও নাগরিকত্ব সনদে সার্কেল চীফের বিশেষ ভূমিকা এবং আইন প্রণয়নে আঞ্চলিক পরিষদের হস্তক্ষেপকে সংবিধানবিরোধী বলে অভিহিত করা হয়। পিসিএনপি অভিযোগ করে যে চুক্তিটি একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পাহাড়ের বাঙালি জনগোষ্ঠীসহ দেশের সমতলের সাধারণ মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সৃষ্টি করেছে।
স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা এবং জনগণের সম-অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে চার দফা দাবি তুলে ধরে পিসিএনপি। দাবিগুলো হলো—সংবিধানবিরোধী পার্বত্য চুক্তি বাতিল বা সাংবিধানিক উপায়ে পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধন, পাহাড়ে বসবাসকারী সকল নাগরিকের সমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ, পাহাড়ে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রত্যাহার করা নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পুনঃস্থাপন।
স্মারকলিপিতে তারা ৪দফা দাবি পেশ করেন করে বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, জনগণের সম-অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার বঞ্চিত নিপীড়িত জনতার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ পরিষদ নিম্নোক্ত দাবীগুলো উত্থাপন করছি:
১। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অবিলম্বে বাতিল বা সংবিধানসম্মত উপায়ে পুনর্মূল্যায়ন করে সংশোধন করতে হবে।
২। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জন্য সমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে যেখানে কোনো জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা থাকবে না।
৩। পাহাড়ে সক্রিয় সকল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে তাদের নির্মূল করতে হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে ।
৪। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাহার করা সকল নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পুনঃস্থাপন করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) বান্দরবান জেলার সি. সহ-সভাপতি জমির উদ্দীন, সহ-সভাপতি জানে আলম, সাধারণ সম্পাদক তানভির হোসেন ইমন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দীনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন